- Get link
- X
- Other Apps
এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে লন্ডনের পথে খালেদা জিয়া
বহু প্রতীক্ষার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য লন্ডনের উদ্দেশ্যে ঢাকা ছেড়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। মঙ্গলবার (৭ জানুয়ারি) রাত পৌনে ১২টায় হযরত শাহজালাল (র.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে কাতারের আমিরের বিশেষ উপহার হিসেবে প্রাপ্ত রয়েল কাতার আমিরির বিশেষায়িত ‘এয়ার অ্যাম্বুলেন্স’ যোগে তিনি ঢাকা ত্যাগ করেন।
বিশেষ এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটি যুক্তরাজ্যের স্থানীয় সময় বুধবার সকাল ১১টায় হিথ্রো বিমানবন্দরে অবতরণ করবে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ বেগম খালেদা জিয়াকে ভিআইপি প্রটোকল প্রদান করবে। সেখানে তাঁকে অভ্যর্থনা জানাবেন তাঁর জ্যেষ্ঠ পুত্র ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, পুত্রবধূ ডা. জুবাইদা রহমানসহ পরিবারের সদস্য এবং যুক্তরাজ্য বিএনপির বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মী। দীর্ঘ ছয় বছর পর মা ও ছেলের এ পুনর্মিলনী হবে।
হিথ্রো বিমানবন্দর থেকে বেগম জিয়াকে বিশেষ অ্যাম্বুলেন্সে পশ্চিম লন্ডনের ঐতিহ্যবাহী চিকিৎসাকেন্দ্র ‘লন্ডন ক্লিনিক’-এ নেওয়া হবে এবং সেখানেই তাঁর চিকিৎসা শুরু হবে। যুক্তরাজ্য বিএনপির একাধিক সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। ৮০ বছর বয়সী এই সাবেক প্রধানমন্ত্রী দীর্ঘদিন ধরে লিভার সিরোসিস, হৃদরোগ ও কিডনি সমস্যাসহ নানা জটিল রোগে ভুগছেন।
ব্রিটেনে রওনা হওয়ার আগে প্রিয় নেত্রীকে বিদায় জানাতে গুলশানের ফিরোজা বাসার সামনে দলের নেতা-কর্মীদের ছিল উপচে পড়া ভিড়। এতে একপর্যায়ে বাসার সামনের রাস্তায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা এবং গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।
বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক এবং দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন সোমবার বিকেল ৩টায় গুলশানের ফিরোজায় প্রবেশ করেন। দলীয় নেতাকর্মীদের ভিড় ঠেলে, সোমবার রাত ৮টায় একটি গাড়ি খালেদা জিয়াকে ফিরোজা থেকে নিয়ে গুলশান-২-এর চৌরাস্তা হয়ে কামাল আতাতুর্ক অ্যাভিনিউ ধরে বনানী-কাকলী পয়েন্ট দিয়ে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়।
বিশেষ ফ্লাইটে বিদেশ যাত্রা
সোমবার সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিটে কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির পাঠানো রাজকীয় বিশেষ বিমান ‘রয়েল এয়ার অ্যাম্বুলেন্স’ ঢাকায় অবতরণ করে। বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অসুস্থতার খবরে কাতারের আমির এই বিশেষ বিমানের ব্যবস্থা করেছেন। বিএনপির চেয়ারপারসনকে বিদায় জানাতে গুলশানের বাসা ফিরোজা এবং বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য, জাতীয় নির্বাহী কমিটির নেতৃবৃন্দ, এবং বিপুলসংখ্যক দলীয় নেতা-কর্মী।
সঙ্গে থাকা ব্যক্তিবর্গ
বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসা বোর্ডের ছয়জন সদস্য, যথাক্রমে অধ্যাপক ডা. শাহাবুদ্দিন তালুকদার, ডা. এফ এম সিদ্দিক, অধ্যাপক নুরুদ্দিন আহমেদ, ডা. জাফর ইকবাল, ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, এবং ডা. মোহাম্মদ আল মামুন তাঁর সঙ্গে রয়েছেন। এছাড়া, তাঁর ছোট ছেলের স্ত্রী সৈয়দা শর্মিলা রহমান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এনামুল হক চৌধুরী, নির্বাহী কমিটির সদস্য তাবিথ আউয়াল, একান্ত সচিব এ বি এম আবদুস সাত্তারসহ ব্যক্তিগত কর্মচারীরা এই সফরে সঙ্গে রয়েছেন।
দেশবাসীর কাছে দোয়া প্রার্থনা
বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতা ও নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের জন্য বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান, মহাসচিব, স্থায়ী কমিটি, এবং পরিবারের পক্ষ থেকে দেশবাসীর কাছে দোয়া চাওয়া হয়েছে।
চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা
ডা. জাহিদ হোসেন গণমাধ্যমকে জানান, বেগম খালেদা জিয়ার লিভার সিরোসিসসহ নানা জটিলতা রয়েছে। দেশে সীমিত চিকিৎসা হয়েছে, তবে আরও উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন। তাঁর হার্টে একাধিক ব্লক রয়েছে, যার মধ্যে জীবন বাঁচানোর জন্য অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কিছু চিকিৎসা করা হয়েছে। তবে অন্যান্য ব্লকসহ কভিড-পরবর্তী জটিলতা এবং লিভারের উন্নত চিকিৎসার জন্য লন্ডনের মাল্টি-ডিসিপ্লিনারি অ্যাডভান্স চিকিৎসা ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
‘চিকিৎসার জন্য সেন্টারে যাচ্ছি ম্যাডামকে নিয়ে। সেখানকার চিকিৎসকরা পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করবেন।’
খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য জটিলতা
বেগম খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে লিভার সিরোসিস, হৃদরোগ এবং কিডনি সমস্যাসহ একাধিক স্বাস্থ্য জটিলতায় ভুগছেন। স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের আমলে তিনি উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে যেতে ১৮ বার আবেদন করলেও, সেই অনুমতি দেওয়া হয়নি। ২০২৩ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার প্রবল আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে পালিয়ে যান। পরবর্তী অন্তর্বর্তী সরকার খালেদা জিয়াকে সব মিথ্যা মামলা থেকে অব্যাহতি দিয়ে বিদেশে চিকিৎসার অনুমতি দেয়।
হাসপাতালে দীর্ঘ সময়
২০২০ সালের ২৫ মার্চ সরকারের শর্তসাপেক্ষ নির্বাহী আদেশে মুক্তির পর থেকে গত চার বছরে খালেদা জিয়াকে প্রায় সাড়ে আট মাস (২৬০ দিন) ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি থাকতে হয়েছে। কারাবন্দি থাকার সময় ধরে এ পর্যন্ত মোট ছয় বছরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় এবং এভারকেয়ার হাসপাতালে মিলিয়ে তিনি দেড় বছরেরও বেশি সময় চিকিৎসাধীন ছিলেন।
- Get link
- X
- Other Apps

Comments
Post a Comment